বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) আয়কর দাখিল প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপ দিয়েছে। বর্তমানে কর পরিশোধ বা জিরো রিটার্ন (Zero Return) জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্যাক্স অফিসে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না কিংবা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা উকিলের শরণাপন্ন হতে হবে না।
আপনার যদি করযোগ্য আয় না থাকে কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেন বা সেবার জন্য টিন (TIN – Taxpayer Identification Number) সনদের প্রয়োজন হয়, তাহলে আপনাকে অবশ্যই জিরো রিটার্ন বা শূন্য রিটার্ন জমা দিতে হবে।
২০২৬-২৭ কর বছরের জন্য এনবিআরের অনলাইন eReturn পোর্টাল (etaxnbr.gov.bd) ব্যবহার করে অত্যন্ত সহজে এবং নিরাপদ উপায়ে ঘরে বসেই জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব। এই আর্টিকেলে আমরা জিরো রিটার্ন দাখিলের প্রতিটি ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনের শর্তাবলী এবং সম্ভাব্য ভুলগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
জিরো রিটার্ন (Zero Return) কী এবং কাদের জন্য প্রযোজ্য?

সহজ কথায়, জিরো রিটার্ন হলো এমন একটি আয়কর বিবরণী যেখানে কোনো ব্যক্তির আয়কর বা Tax-এর পরিমাণ থাকে শূন্য (০ টাকা)।
অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী আপনার যে বার্ষিক আয় রয়েছে, তা করমুক্ত আয়সীমার নিচে অবস্থান করছে এবং আপনাকে সরকারকে কোনো কর দিতে হচ্ছে না।
২০২৬-২৭ কর বছরে করমুক্ত আয়ের সীমা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তি করদাতাদের জন্য বাৎসরিক করমুক্ত আয়ের সীমা নিচে দেওয়া হলো:
- সাধারণ পুরুষ করদাতা: ৩,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত
- নারী এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের জ্যেষ্ঠ নাগরিক: ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
- তৃতীয় লিঙ্গ (Transgender) ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা: ৪,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত
- গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা: ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির অভিভাবক: প্রতি সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সীমা বাড়বে।
যদি আপনার বাৎসরিক আয় উল্লেখিত সীমার নিচে হয়ে থাকে, তাহলে আপনার কোনো আয়কর বা ট্যাক্স দিতে হবে না। কিন্তু যদি আপনার ১২ ডিজিটের টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট থাকে, সেক্ষেত্রে আপনাকে জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
কাদের বাধ্যতামূলকভাবে জিরো রিটার্ন জমা দিতে হবে?
আয়কর আইন অনুযায়ী, আয় না থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেমন:
১. ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বা গ্রহণ: যেকোনো ব্যবসা সচল রাখা বা নতুন ব্যবসার জন্য।
২. ব্যাংক ঋণ গ্রহণ: ৫ লক্ষ টাকার বেশি ব্যাংক লোন আবেদনের ক্ষেত্রে।
৩. ক্রেডিট কার্ড বা প্রিপেইড কার্ড গ্রহণ: যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কার্ড নিতে।
৪. জমি, ফ্ল্যাট বা সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়: নির্দিষ্ট মূল্যের সঞ্চয়পত্র ক্রয় বা ফ্ল্যাট/জমি নিবন্ধনের জন্য।
৫. সঞ্চয়পত্র বা ডিপিএস বিনিয়োগ: ৫ লক্ষ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বা পোস্টাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে।
৬. উচ্চপদস্থ সরকারি বা বেসরকারী চাকরি: ১৬তম গ্রেডের ওপরের সরকারি চাকরিজীবী বা নির্দিষ্ট বেতনের বেসরকারী কর্মচারীদের জন্য।
৭. কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক: কোনো প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর বা শেয়ারহোল্ডার পদে থাকলে।
৮. এমপিওভুক্ত শিক্ষক: নির্দিষ্ট পদের শিক্ষকদের আয়কর বিবরণী জমাদান বাধ্যতামূলক।
ঘরে বসে অনলাইন ই-রিটার্ন দাখিলের সুবিধা
আগেকার দিনে আয়কর অফিসে গিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়া একটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ ছিলো। কিন্তু অনলাইনে ই-রিটার্ন (e-Return) জমা দেওয়ার বেশ কিছু চমৎকার সুবিধা রয়েছে:
- সময় ও অর্থের সাশ্রয়: অফিসে যাওয়া বা উকিল ফি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
- সহজ হিসাব-নিকাশ: পোর্টাল নিজে থেকেই যাবতীয় হিসাব পরিচালনা করে।
- তাৎক্ষণিক প্রমাণপত্র (Ack Receipt): রিটার্ন জমা দেওয়ার সাথে সাথেই আপনি প্রাপ্তিস্বীকার পত্র এবং ট্যাক্স সার্টিফিকেট (Tax Certificate) ডাউনলোড করতে পারবেন।
- সঠিক তথ্য সংরক্ষণ: অতীতের সব রিটার্নের রেকর্ড অনলাইনে সংরক্ষিত থাকে।
অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল করতে কী কী প্রয়োজন?
আবেদন শুরু করার আগে নিম্নলিখিত বিষয় ও কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখুন:
১. এনআইডি (NID) কার্ড: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র।
২. ১২ ডিজিটের ই-টিআইএন (e-TIN) নম্বর: এনবিআর থেকে প্রাপ্ত টিআইএন সনদ।
৩. বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর: সিমটি অবশ্যই আপনার নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে (ওটিপি ও অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য)।
৪. ব্যাংক স্টেটমেন্ট: কর বছরের (১ জুলাই থেকে ৩০ জুন) ব্যাংক হিসাব বিবরণী।
৫. আয়ের বিবরণী (যদি প্রযোজ্য হয়): কোনো অনিয়মিত বা করমুক্ত আয় থাকলে তার প্রমাণ।
৬. সম্পদ ও দায়ের বিবরণী: আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স, মোবাইল ব্যাংকিং স্থিতি, সোনা, জমি বা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের তালিকা।
২০২৬-২৭ কর বছরে অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিলের সম্পূর্ণ ধাপসমূহ
নিচে ধাপে ধাপে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:
ধাপ ১: ই-ট্যাক্স পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন বা সাইন-ইন
১. প্রথমে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের ব্রাউজার থেকে এনবিআরের অফিশিয়াল ই-রিটার্ন ওয়েবসাইট etaxnbr.gov.bd এ প্রবেশ করতে হবে।
২. আপনি যদি নতুন ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তাহলে Register বাটনে ক্লিক করবেন।
৩. আপনার TIN নম্বর এবং আপনার নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর লিখবেন।
৪. ক্যাপচা পূরণ করে Submit বাটনে ক্লিক করবেন। এরপর আপনার মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) আসবে।
৫. ওটিপি কোড দিয়ে পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে।
৬. রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে Sign In অপশনে গিয়ে আপনার TIN নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে পোর্টালে লগইন করতে হবে।
ধাপ ২: রিটার্ন স্কিম নির্বাচন (Single-Page Return Option)
লগইন করার পর আপনার সামনে ই-ফাইল ড্যাশবোর্ড চলে আসবে।
১. বাম পাশের মেনু থেকে e-Return বা Submission এ ক্লিক করুন।
২. আপনার কর বছর 2026-2027 স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখাবে।
৩. পোর্টালে সাধারণ রিটার্ন বা Single-Page Return বাছাই করার সুযোগ থাকবে। জিরো রিটার্ন প্রস্তুতকারীদের জন্য এই সিঙ্গেল পেজ ফর্মটি অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত কাজ করে থাকে।
ধাপ ৩: ব্যক্তিগত ও আয়ের বিবরণী পূরণ (Basic Information & Income)
এখানে তিনটি প্রধান সেকশন থাকে:
ক. Basic Information
- Name & NID: আপনার নাম, এনআইডি নম্বর এবং পিতার নাম পূর্বে দেওয়া তথ্যের সাথে মিলে যাবে।
- Assessment Year: 2026-2027 সিলেক্ট করা থাকবে।
- Head of Income: কোনো আয় না থাকলে বা আয়ের সীমা ৩,৫০,০০০ টাকার নিচে হলে নির্দিষ্ট অপশনগুলো ফাঁকা রাখুন বা ‘No Income’ সিলেক্ট করুন।
খ. Income Details (আয়ের তথ্য)
- যদি কোনো চাকরি বা ব্যবসা থেকে আয় না থাকে, তবে আয়ের পরিমাণ 0 (শূন্য) রাখুন।
- কোনো ব্যাংকে যদি অল্প টাকা জমানো থাকে এবং ব্যাংক কোনো সুদের ওপর উৎসে কর (AIT) কেটে থাকে, তবে সেই হিসাব ‘Bank Interest’ অপশনে উল্লেখ করতে পারেন। তবে আপনার মোট বাৎসরিক আয় যদি করমুক্ত সীমার নিচে হয়, তাহলেও চূড়ান্ত ট্যাক্স আসবে ০ টাকা।
ধাপ ৪: সম্পদ ও দায়ের বিবরণী পূরণ (Assets & Liabilities / IT-10B)
জিরো রিটার্ন দাখিলের সময় সম্পদ ও দায়ের সঠিক হিসাব দেওয়া আইনগতভাবে অত্যন্ত জরুরি। আপনার মোট সম্পদের পরিমাণ যদি ৪০ লক্ষ টাকার নিচে হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে বিস্তারিত সম্পদ বিবরণী দেওয়া ঐচ্ছিক, তবে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া আবশ্যক।
১. নগদ টাকা ও ব্যাংক ব্যালেন্স: ৩০ জুনের হিসাবে আপনার কাছে থাকা নগদ টাকা এবং ব্যাংকে জমানো টাকার পরিমাণ লিখুন।
২. স্থাবর সম্পদ: নিজের নামে ফ্ল্যাট, জমি বা বাড়ি থাকলে তার আনুমানিক ক্রয়মূল্য উল্লেখ করুন।
৩. অস্থাবর সম্পদ: অলংকার (সোনা/রুপা), আসবাবপত্র এবং ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রদান করুন।
৪. জীবনযাত্রার ব্যয় (Personal & Family Expenditure): সারা বছরে আপনার আনুমানিক পারিবারিক খরচের একটি হিসাব দিন (যেমন: ১,২০,০০০ টাকা বা ১,৫০,০০০ টাকা)।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: আপনার পূর্বের বছরের সঞ্চয় এবং বর্তমান আয়ের সাথে অর্জিত সম্পদ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
ধাপ ৫: ট্যাক্স ক্যালকুলেশন এবং জিরো ট্যাক্স ভেরিফিকেশন
সকল তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ট্যাক্স হিসাব করবে।
- Net Taxable Income: ০ টাকা (বা করমুক্ত সীমার নিচে)।
- Tax Payable: 0.00 BDT.
আপনি দেখতে পাবেন আপনার নিট প্রদেয় কর আসছে ০.০০ টাকা।
ধাপ ৬: রিটার্ন ভিউ ও ফাইনাল সাবমিশন (Final Submission)
১. সব তথ্য দেওয়া শেষে Tax With Return View বা Preview বাটনে ক্লিক করুন।
২. সম্পূর্ণ পেজটি ভালো করে দেখে নিন যে আপনার নাম, এনআইডি, ঠিকানা এবং সম্পদের তথ্য সঠিকভাবে উঠেছে কিনা।
৩. সবকিছু সঠিক থাকলে Proceed to Submit এ ক্লিক করুন।
৪. আপনার নিকট জানতে চাওয়া হবে আপনি নিশ্চিতভাবে রিটার্ন জমা দিতে চান কিনা। Yes চাপুন।
৫. সফলভাবে সাবমিট হলে একটি পপ-আপ মেসেজ বা কনফার্মেশন পাবেন।
ধাপ ৭: একনলেজমেন্ট স্লিপ ও ট্যাক্স সার্টিফিকেট ডাউনলোড
রিটার্ন সাবমিট করার পর সাথে সাথেই আপনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পাবেন:
১. Acknowledgement Receipt (প্রাপ্তিস্বীকার পত্র): এটি প্রমান করে যে আপনি ২০২৬-২৭ কর বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ব্যাংক লোন, ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি কাজের জন্য এটি ব্যবহার করা যায়।
২. Tax Certificate (আয়কর সনদ): পোর্টালের Certificate অপশন থেকে আপনি আপনার অফিশিয়াল কর সনদপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট বা সেভ করে রাখতে পারেন।
জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যে ভুলগুলো করা যাবে না
অনেকে জিরো রিটার্নকে খুব সহজ ভেবে কিছু ভুল করে বসেন, যার ফলে পরবর্তী সময়ে আয়কর অফিস থেকে নোটিশ আসার ঝুঁকি থাকে। নিচে কয়েকটি কমন ভুল ও সমাধান দেওয়া হলো:
১. ব্যাংকের তথ্য গোপন করা
আপনার ব্যাংকে যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন হয় কিন্তু আপনি আয় ০ দেখান, তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এআই (AI) চালিত ডেটাবেজ তা ধরে ফেলতে পারে। আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে রিটার্নের সামঞ্জস্য রাখুন।
২. সঠিক সম্পদ না দেখানো
অনেকে মনে করেন জিরো রিটার্ন মানে কোনো সম্পদ দেখানো যাবে না। এটি ভুল ধারণা। আপনার আয়ের মূল উৎস বা জমানো টাকা দিয়ে কেনা সম্পদ সঠিকভাবে ডিক্লেয়ার করুন।
৩. ভুল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা
আপনার এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত নয় এমন নম্বর দিয়ে ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট খুলবেন না। এটি ভবিষ্যতে পাসওয়ার্ড রিকভারি বা অফিসিয়াল যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৪. সময়সীমা বা ট্যাক্স ডে পার হয়ে যাওয়া
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী সাধারণত ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবসের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দাখিল করলে কর ছাড় বা বিশেষ কিছু সুবিধা পাওয়া যায় না।
FAQs – অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম
প্রশ্ন ১: জিরো রিটার্ন কি প্রতি বছর জমা দিতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনার যদি টিআইএন (TIN) সনদ থাকে এবং আপনি এটি সচল রাখতে চান, তবে প্রতি কর বছরেই আপনাকে নিয়মিত জিরো রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
প্রশ্ন ২: জিরো রিটার্ন জমা দিলে কি কোনো সরকারি ফি দিতে হয়?
উত্তর: না, অনলাইনে জিরো রিটার্ন জমা দিতে কোনো সরকারি ফি বা অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য নয়। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়।
প্রশ্ন ৩: আমার কোনো আয় বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, আমি কি জিরো রিটার্ন দিতে পারব?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনার কোনো আয় বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও আপনি শুধুমাত্র আপনার সাধারণ ব্যক্তিগত তথ্য ও শূন্য আয় উল্লেখ করে অনলাইনে জিরো রিটার্ন দিতে পারবেন।
প্রশ্ন ৪: ভুল তথ্য দিয়ে রিটার্ন সাবমিট হয়ে গেলে সংশোধন করা যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, অনলাইন পোর্টালে আয়কর আইনের ধারা অনুযায়ী Revised Return বা সংশোধন করার অপশন দেওয়া থাকে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আপনি সংশোধন করতে পারবেন।
শেষ কথা
বর্তমানে অনলাইনে ই-রিটার্ন পোর্টালের কারণে ট্যাক্স ফাইল তৈরি করা অত্যন্ত সহজ একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সঠিক সময়ে জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া আমাদের আইনগত দায়িত্ব। ২০২৬-২৭ কর বছরের জন্য শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে এখনই আপনার ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন করে ঘরে বসেই মাত্র ১০-১৫ মিনিটে আপনার জিরো রিটার্ন দাখিল করে নিন এবং নিরাপদ থাকুন।
